সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে হলে পরিবারকে টিকা নিতে হবে

শিক্ষার্থীদের পরিবারের সব সদস্য টিকা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের স্কুলে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে চীনের কয়েকটি স্থানীয় সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে স্কুল খোলার আগে এই ঘোষণা এল। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন শহর কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সেখানকার হাসপাতাল ও সুপারমার্কেটগুলোতে প্রবেশ করতে হলে সবাইকে টিকা নিতে হবে।

সম্প্রতি চীনের গুয়াংসি প্রদেশের বেইলিউ শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাঁরা এখনো টিকা নেননি কিন্তু চাইছেন দ্রুত সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন, তাহলে তাঁদের জন্য নির্দেশ হলো দ্রুত টিকা নিন। সব বয়সী শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

গুয়াংসি, হেনানসহ কয়েকটি প্রদেশের স্থানীয় সরকার একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর পরিবার ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছে, তারা আগামী সেমিস্টারের ক্লাসে যোগ দিতে পারবে। তবে শহর ভেদে এসব আদেশে ভিন্নতা রয়েছে।

যেমন দেশটির হুবেই প্রদেশের পিনসিয়াং শহরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অন্য বয়সীদের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। অপর দিকে সানচি প্রদেশের হানচেং শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাঁরা টিকা নেননি, তাঁরা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এ ধরনের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই এটাকে ‘অন্যায়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। চীনের জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম উইবোতে একজন লিখেছেন, ‘তারা (স্থানীয় কর্তৃপক্ষ) প্রথমে বলেছিল যে কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় টিকা নিতে পারবে, কিন্তু এখন সেটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছে তারা।’

চীনের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জনগণকে যেখানে স্বেচ্ছায় টিকা নিতে আগ্রহী করে তোলা উচিত, সেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। চীন এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় শ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করেছে। তবে কী পরিমাণ মানুষ এই টিকা পেয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *