যে কারণে আজও ভক্তরা মনে রেখেছেন বিদ্যা ভারতীকে

নব্বয়ের শুরুর দিকে বলিউডে প্রবেশের পর একের পর এক সিনেমা দিয়ে পর্দা কাঁপিয়েছেন অভিনেত্রী বিদ্যা ভারতী। তবে খুব অল্পসময়েই বলিউড হারিয়ে ফেলে সে সময়ের সেই গুণী অভিনেত্রীকে। যার নাম উচ্চারিত হলেই অনেকটা হতাশা ও আক্ষেপ ভেসে উঠে বলিউড পাড়ার লোকজনের চোখে মুখে। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে যান সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত এই অভিনেত্রী। আজ তার ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৯০ সালে `বাবলি রাজা` ছবি দিয়ে রূপালী জগতে তার বিচরণ ঘটে। অর্থাৎ এই তেলেগু ছবির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন তেলেগু ইন্ড্রাস্ট্রিতে। অভিনয় করেন `নিলা পেনি`, `না ইল্লে না সরগম`, `রাউডি আল্লাডু`, `এসেম্বলি রাউডি` ও `ধর্মাক্ষেত্রম` ছবিতে। এরপর ১৯৯২ সালে `বিশ্বাত্মা` ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন দিব্যা।

`বিশ্বাত্মা` ছবিতে বিদ্যার বিপরীতে ছিলেন সানি দেওল। ছবিটি আলোচনায় চলে আসে তার অভিনয় ও গানগুলো দিয়ে। বিশেষ করে `সাত সামুন্দর` গানটি দর্শকদের হূদয়ে আজও জায়গা করে আছে। এরপর একের পর এক ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হতে থাকেন দিব্যা। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার লরেন্স ডি সুজার রোমান্টিক ছবি `দিল কিয়া কাসুর`র মধ্যে তার বিপরীতে থাকেন নায়ক পৃথবী। ১৯৯২ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া ডেভিড ধাওয়ানের `শোলে ওর শাবনাম`। এতে তার বিপরীতে ছিলেন গোবিন্দ।

কিন্তু টার্নিং পয়েন্ট ছিল শাহরুখ খানের বিপরীতে `দিওয়ানা` ছবিটি। সেই বছরের শাহরুখ খানও পুরস্কার আদায় করে নেন সেরা অভিষেক নায়ক হিসেবে। এ ছবিটির যে গানটি এখনও সবাইকে আন্দোলিত করে সেটি হল `অ্যায়সে দিওয়ানে হি….।` এর পরপরই একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার শুরু হয় দিব্যার। ১৯৯২ এবং ১৯৯৩ এর প্রথমার্ধে তিনি ১৪টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন যা আজ পর্যন্ত বলিউডে অভিষেক হিসেবে তার রেকর্ড হয়ে আছে।

জীবিত অবস্থায় দিব্যার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হয়- `খাতরিয়া`। সালের ৫ এপ্রিল রাত ১১.৪৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের তুলসি অ্যাপার্টমেন্টের ৫ তলার ব্যালকোনি থেকে পড়ে যান দিব্যা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। ২ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় তার শেষকৃত্য। বলিউডের বড় বড় তারকারা যোগ দেন তার শেষকৃত্যে। অমরেশ পুরি, হেমা মালিনী, ববিতা, কারিশমা কাপুর, সাইফ আলী খান, সঙ্গিতা বিজলানী, শ্রীদেবী, মনিষা কৈরালা ও আশা পারেখের মতো প্রখ্যাত তারকাদের দেখা যায় সেখানে। কেউ কেউ বলেছেন এটি দুর্ঘটনা না, হয়তো হত্যা। এমনকি তার স্বামী সাজিদ নাদিওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠে। ১৯৯৮ সালে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বলা হয়, দিব্যার মৃত্যুটি ছিল দুর্ঘটনাজনিত।

তার মৃত্যুর ২৮ বছর পেরিয়ে গেছে। তবু এখনো ভক্তরা তাকে মনে রেখেছেন, এখনো তাদের অন্তরে দাগ কেটে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। জনপ্রিয়তার তালিকায় আজও তার গানের জনপ্রিয়তা শীর্ষে। তার সে সময়ের কাল জয়ী গান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অবদানের কারণে এখনো মনের অন্তস্থলে জায়গা দিয়ে রেখেছেন ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *